“ভাই আপনারা আবার আয়ছেন?”
রাত ২ টায় নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের ভলেন্টিয়ারগণ যখন কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রবেশ করে তখন হাস্যোজ্জ্বল চেহারার একটি ছেলে এগিয়ে আসে নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের খাবার ভর্তি ট্রাকের কাছে এবং বলে “ভাই আপনারা না আগে আয়ছিলেন, আমাদের খাওয়াইছেন”, “আমার মনে আছে”।
এরপর একে একে জড়ো হতে শুরু করে বেশ কিছু তরুণ, তাদের দাবি গতবছর নুরুন নিসা ফাউন্ডেশন যে মেহমানদারি করেছিল, তা তারা এখনো ভোলেনি।
শুনেছি মানুষ দুপুরে যা খায় তা নাকি রাতেই ভুলে যায়। অথচ নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সামান্য কিছু মেহমানদারি ছিন্নমূল এসকল মানুষের চোখেমুখে যে কৃতজ্ঞতাবোধ দেখলাম তা অবিশ্বাস্য।
বিনামূল্যে খাবার দেয়া হচ্ছে একথা শুনে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্মসহ আশেপাশের অন্যান্য ছাউনির নিচে ঘুমিয়ে থাকা মানুষেরা ভিড় জমিয়ে ফেলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই। গোস্ত, পোলাও দিবে বলে নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু করে।
হোক সে ধনী বা গরিব, প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগার মুহূর্তে সুস্বাদু খাবার খাওয়ার সুযোগ পেলে যে কারোর চোখে মুখে আনন্দের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, জীবনযুদ্ধে প্রতিদিন লড়ে যাওয়া এসকল মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি।
গত বছরের ন্যায় এ বছরও মেহমানদারি শুরু হয় রাত ২ টা ৩০ মিনিটে, পুরোদমে মেহমানদারি চলে ভোর ৪টা ৩০ পর্যন্ত। সকল শ্রেণি-পেশা ও বয়সের প্রায় ৮০০ জন মেহমান অংশগ্রহণ করে আমাদের এই আয়োজনে।
“বাবা অনেক দিন পর পোলাও, গোস্ত খেলাম খুব ভালো লাগছে”
হ্যাঁ! রোদে রোদে ঘুরে বাজার করা, প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিঁজে, গরমে পুড়ে রান্না করা, মাঝ রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করা, খাবার ট্রাকসমেত জ্যামে আটকে থাকা, সারারাত জেগে মেহমানদারি করা….. মনে হয়, সার্থক হয়েছে।

Visit our website: www.nurunnisafoundation.org
#nurunnisafoundation #নুরুননিসাফাউন্ডেশন #NNFamily #nnf #fooddistribution