ফ্রী খাবার বিতরণ কমলাপুর রেলস্টেশনে।

রাত তখন ২ টা , পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই  কমলাপুর রেলস্টেশনে মেহমানদারি করতে হাজির নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবীগণ। ল্যাম্পোস্টের মিটি মিটি আলোয় পরিষ্কার করা হয় মেহমানদের বসার স্থান এবং বেছানো হয় দস্তরখানা। এরপর আমন্ত্রণ করা হয় মেহমানদেরকে। কি অবাক কান্ড! আপনি আমি যেখানে ককেয়দিন আগে দাওয়াত না পেলে দাওয়াত গ্রহণ করি না ,সেখানে এই সাধারণ মানুষেরা কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রহণ করে আমাদের দাওয়াত এবং উপভোগ করে আমাদের সামান্য তবারক। সাধাসিধে অতি সাধারণ এই সকল মানুষদের খেদমতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবীগণ। দিনশেষে প্রাপ্তির খাতা যেন পূর্ণ হলো।

 

কমলাপুর রেল স্টেশন ঢাকা।

কমলাপুর রেল স্টেশন ঢাকা , সারাদিন ব্যাস্ত থাকে হাজার যাত্রীর ভিড়ে।

এই স্টেশনে ট্রেনে চড়ে কেউ আসে স্বপ বুনতে আবার কেউ ফিরে যায় স্বপ্ন পুরুন না হওয়ার বেদনা নিয়ে।
সারাদিনের এই ব্যস্ততা শেষে যখন আধার নেমে আসে ঠিক তখন দেখা যায় ভিন্ন এক ছবি।
আস্তে আস্তে ভিড় করে জীবন যুদ্ধে হার না মানা একদল মানুষ। এই মানুষদের কাছে ৬৯ বছর বয়সি কমলাপুর রেল স্টেশন যেনো বাড়ির মতো।
আমার আপনার যখন মখমলের নরম বালিশে শুয়ে ঘুম হয়না ঠিক তখন ইট সিমেন্টের তৈরি স্টেশনের পাটাতনে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন জীবন যুদ্ধেহার না মানা এই মানুষেরা।
এই মানুষদের সাথে সামান্য কিছু খাবার ভাগ করে নিতে মাঝ রাতে কমলাপুর স্টেশনে হাজির হয় নুরুন নিসা ফাউন্ডেশন।

সুবিধা বঞ্চিত কত শিশু পথে ঘাটে সব ভুলে একবেলা খাবারের পিছু ছোটে।

ক্ষুধার রাজ্যে উচু আকাশটা মাটি
পুর্নিমা চাদ যেনো ঝলসানো রুটি
সুকান্ত বুঝেছিলো আমাদের ব্যাথা
লিখেছিলো কবিতায় ক্ষুধাতুরা কথা
সুবিধা বঞ্চিত কত শিশু পথে ঘাটে
সব ভুলে একবেলা খাবারের পিছু ছোটে।
-Tabib Mahmud

নূরুন নিসা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গভীর রাতে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ।

নূরুন নিসা ফাউন্ডেশনের নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ ফাউন্ডেশনের সম্মানিত ভাইস চেয়ারম্যান মহোদয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গভীর রজনীতে নির্ঘুম নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন; অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বিলিয়ে দিয়ে তাঁদের একবেলা ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর চেষ্টা করছেন।

 

আমরাতো রাত গভীর হওয়ার আগেই ভালো ভালো মজার মজার হরেক রকমের খাবার খেয়ে, তৃপ্ত উদর নিয়ে আরামের বিছানায় শান্তির ঘুমে হারিয়ে যাই। আর, একই সময়ে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের মাথা গোঁজার ঠাই নেই, আরামের নরম বিছানা নেই, ক্ষুধার তাড়নায় ছটফট করতে থাকা অতৃপ্ত ক্লান্ত দেহ হয়তো পথের পাশেই এলিয়ে দেয় অসংখ্য পোকামাকড় এবং মশার যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করেই। এই সকল মানুষদের কষ্ট দেখার বা বোঝার কোন মানুষ নেই। সমাজের চোখে তারা কেমন যেন এক ঘৃণ্য প্যারাসাইটের ন্যায়। আপনারা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না, কত অসহায় মানুষের রাত কাটে পথে প্রান্তরে, রেল স্টেইশনে, দোকান পাটের সামনে রাখা টেবিলে, ফুট ওভার ব্রিজের উপরে নিচে, এমনকি ময়লার স্তূপের পাশে। নূরুন নিসা ফাউন্ডেশনের অন্যতম একটি এজেন্ডা হচ্ছে এসকল অসহায় মানুষদের সহায় হিসেবে পাশে এসে দাঁড়ানো। তাঁদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেদেরকে ছোট ভাববেন না, আমরা আছি আপনার পাশে!
ইনশা আল্লাহ্‌, আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে এ এসকল আপাত মূল্যহীন মানুষদের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করে তাঁদের নিজ পায়ে দাঁড়ানোর মত স্থিতিশীলতা তৈরীতে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করব। আসুন, আমরা অন্যায় অনাচারে আর পক্ষপাতদুষ্টে দূর্গন্ধময় এই বিশ্বকে মানবতার স্লোগানে সুরভিত সুবাসিত করতে হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসি!