বিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে উপহার সামগ্রি বিতরণ

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ রহমতে আমরা আমাদের পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে উপহার সামগ্রি বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের সম্মানিত ভলেন্টিয়ারগণ রাত ১২টায় বের হয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপহার সামগ্রি বিতরণ করেছেন। তারা খুজে খুজে প্রকৃত গরীব, দু:খী ও অসহায় মানুষ চিহ্নিত করে তাদের হাতে আমাদের নির্ধারিত উপহার সামগ্রি তুলে দিয়েছেন। তারই কিছু মুহুর্ত আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো।

নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সর্বসাধারণের মাঝে সেহেরি বিতরণ কমলাপুর রেল স্টেশনে।

ভাই এরকম দিন গেসে ভাই কুকুর আছে না, মানে বললে ভাই ঘৃণা করবেন ভাই, ক্ষিদার জ্বালায় ভাই কুকুরের খাওন ডাও আমরা খাইসি ভাই।
ভাই অনেক ভালো লাগছে ভাই।
এরকম খাবার ভাই কেউ দেই না আমগো ভাই।
ভাই একটা কথা কি, আমি কইলে আপনি হাসবেন ভাই।
এই খাবারের লাইগা আমরা কান্দিও ভাই।
মানে রাস্তায় কানলেও এই খাবারডা কেউ দেইনা ভাই।
আপনারা দিসেন ভাই অনেক খুশি হইসি ভাই আমরা।
দোআ করি আপনারা যেন প্রত্যেকদিন খাওয়াইতে পারেন ভাই, আল্লাহ যেন তৌফিক দেয় ভাই।
কথা গুলো বলছিলেন, “রাব্বি মুহাম্মাদ” নামক একজন শিশু, যিনি গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সেহরি বিতরণ প্রোগ্রামে মেহমান হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সুসম্পন্ন হলো কমলাপুর রেলস্টেশনে “সর্বসাধারণের মাঝে সেহরি বিতরণ প্রোগ্রাম”।
উক্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ১০০০ জন মেহমান। যাদেরকে পরিবেশন করা হয় হোমমেড চিকেন তেহরি।
সেহেরী বিতরণ প্রোগ্রামে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নুরুর নিসা ফাউন্ডেশনের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে সফল করেছে।
সর্বশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সকল ডোনার এবং ভলেন্টিয়ারগণকে।
যাদের আর্থিক এবং শারীরিক সহোযোগিতায় সফল হচ্ছে নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের প্রত্যেকটি প্রোগাম।

কমলাপুর রেলস্টেশনে মেহমানদারি

“ভাই আপনারা আবার আয়ছেন?”
রাত ২ টায় নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের ভলেন্টিয়ারগণ যখন কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রবেশ করে তখন হাস্যোজ্জ্বল চেহারার একটি ছেলে এগিয়ে আসে নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের খাবার ভর্তি ট্রাকের কাছে এবং বলে “ভাই আপনারা না আগে আয়ছিলেন, আমাদের খাওয়াইছেন”, “আমার মনে আছে”।
এরপর একে একে জড়ো হতে শুরু করে বেশ কিছু তরুণ, তাদের দাবি গতবছর নুরুন নিসা ফাউন্ডেশন যে মেহমানদারি করেছিল, তা তারা এখনো ভোলেনি।
শুনেছি মানুষ দুপুরে যা খায় তা নাকি রাতেই ভুলে যায়। অথচ নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সামান্য কিছু মেহমানদারি ছিন্নমূল এসকল মানুষের চোখেমুখে যে কৃতজ্ঞতাবোধ দেখলাম তা অবিশ্বাস্য।
বিনামূল্যে খাবার দেয়া হচ্ছে একথা শুনে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্মসহ আশেপাশের অন্যান্য ছাউনির নিচে ঘুমিয়ে থাকা মানুষেরা ভিড় জমিয়ে ফেলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই। গোস্ত, পোলাও দিবে বলে নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু করে।
হোক সে ধনী বা গরিব, প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগার মুহূর্তে সুস্বাদু খাবার খাওয়ার সুযোগ পেলে যে কারোর চোখে মুখে আনন্দের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, জীবনযুদ্ধে প্রতিদিন লড়ে যাওয়া এসকল মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি।
গত বছরের ন্যায় এ বছরও মেহমানদারি শুরু হয় রাত ২ টা ৩০ মিনিটে, পুরোদমে মেহমানদারি চলে ভোর ৪টা ৩০ পর্যন্ত। সকল শ্রেণি-পেশা ও বয়সের প্রায় ৮০০ জন মেহমান অংশগ্রহণ করে আমাদের এই আয়োজনে।
“বাবা অনেক দিন পর পোলাও, গোস্ত খেলাম খুব ভালো লাগছে”
হ্যাঁ! রোদে রোদে ঘুরে বাজার করা, প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিঁজে, গরমে পুড়ে রান্না করা, মাঝ রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করা, খাবার ট্রাকসমেত জ্যামে আটকে থাকা, সারারাত জেগে মেহমানদারি করা….. মনে হয়, সার্থক হয়েছে।

Visit our website: www.nurunnisafoundation.org
#nurunnisafoundation #নুরুননিসাফাউন্ডেশন #NNFamily #nnf #fooddistribution

ফ্রী খাবার বিতরণ কমলাপুর রেলস্টেশনে।

রাত তখন ২ টা , পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই  কমলাপুর রেলস্টেশনে মেহমানদারি করতে হাজির নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবীগণ। ল্যাম্পোস্টের মিটি মিটি আলোয় পরিষ্কার করা হয় মেহমানদের বসার স্থান এবং বেছানো হয় দস্তরখানা। এরপর আমন্ত্রণ করা হয় মেহমানদেরকে। কি অবাক কান্ড! আপনি আমি যেখানে ককেয়দিন আগে দাওয়াত না পেলে দাওয়াত গ্রহণ করি না ,সেখানে এই সাধারণ মানুষেরা কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রহণ করে আমাদের দাওয়াত এবং উপভোগ করে আমাদের সামান্য তবারক। সাধাসিধে অতি সাধারণ এই সকল মানুষদের খেদমতে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল নুরুন নিসা ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবীগণ। দিনশেষে প্রাপ্তির খাতা যেন পূর্ণ হলো।

 

কমলাপুর রেল স্টেশন ঢাকা।

কমলাপুর রেল স্টেশন ঢাকা , সারাদিন ব্যাস্ত থাকে হাজার যাত্রীর ভিড়ে।

এই স্টেশনে ট্রেনে চড়ে কেউ আসে স্বপ বুনতে আবার কেউ ফিরে যায় স্বপ্ন পুরুন না হওয়ার বেদনা নিয়ে।
সারাদিনের এই ব্যস্ততা শেষে যখন আধার নেমে আসে ঠিক তখন দেখা যায় ভিন্ন এক ছবি।
আস্তে আস্তে ভিড় করে জীবন যুদ্ধে হার না মানা একদল মানুষ। এই মানুষদের কাছে ৬৯ বছর বয়সি কমলাপুর রেল স্টেশন যেনো বাড়ির মতো।
আমার আপনার যখন মখমলের নরম বালিশে শুয়ে ঘুম হয়না ঠিক তখন ইট সিমেন্টের তৈরি স্টেশনের পাটাতনে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন জীবন যুদ্ধেহার না মানা এই মানুষেরা।
এই মানুষদের সাথে সামান্য কিছু খাবার ভাগ করে নিতে মাঝ রাতে কমলাপুর স্টেশনে হাজির হয় নুরুন নিসা ফাউন্ডেশন।

নূরুন নিসা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গভীর রাতে পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ।

নূরুন নিসা ফাউন্ডেশনের নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ ফাউন্ডেশনের সম্মানিত ভাইস চেয়ারম্যান মহোদয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গভীর রজনীতে নির্ঘুম নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন; অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বিলিয়ে দিয়ে তাঁদের একবেলা ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর চেষ্টা করছেন।

 

আমরাতো রাত গভীর হওয়ার আগেই ভালো ভালো মজার মজার হরেক রকমের খাবার খেয়ে, তৃপ্ত উদর নিয়ে আরামের বিছানায় শান্তির ঘুমে হারিয়ে যাই। আর, একই সময়ে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের মাথা গোঁজার ঠাই নেই, আরামের নরম বিছানা নেই, ক্ষুধার তাড়নায় ছটফট করতে থাকা অতৃপ্ত ক্লান্ত দেহ হয়তো পথের পাশেই এলিয়ে দেয় অসংখ্য পোকামাকড় এবং মশার যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করেই। এই সকল মানুষদের কষ্ট দেখার বা বোঝার কোন মানুষ নেই। সমাজের চোখে তারা কেমন যেন এক ঘৃণ্য প্যারাসাইটের ন্যায়। আপনারা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না, কত অসহায় মানুষের রাত কাটে পথে প্রান্তরে, রেল স্টেইশনে, দোকান পাটের সামনে রাখা টেবিলে, ফুট ওভার ব্রিজের উপরে নিচে, এমনকি ময়লার স্তূপের পাশে। নূরুন নিসা ফাউন্ডেশনের অন্যতম একটি এজেন্ডা হচ্ছে এসকল অসহায় মানুষদের সহায় হিসেবে পাশে এসে দাঁড়ানো। তাঁদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেদেরকে ছোট ভাববেন না, আমরা আছি আপনার পাশে!
ইনশা আল্লাহ্‌, আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে এ এসকল আপাত মূল্যহীন মানুষদের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করে তাঁদের নিজ পায়ে দাঁড়ানোর মত স্থিতিশীলতা তৈরীতে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করব। আসুন, আমরা অন্যায় অনাচারে আর পক্ষপাতদুষ্টে দূর্গন্ধময় এই বিশ্বকে মানবতার স্লোগানে সুরভিত সুবাসিত করতে হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসি!